Bangladesh Students' Association in Turkey BASAT

তুরস্ক সরকারের প্রেস্টিজিয়াস স্কলারশিপ কিভাবে পাবেন?

আবদনের সময় আজ থেকে শুরু হয়েছে। তাই আপনি স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতার দৌড়ে থাকতে পারছেন কিনা, এবং সম্পূর্ণ প্রসেসিং জানতে ১০ মিনিট সময় হাতে নিয়ে পুরো লিখাটা পড়ুন। পুরোটা পড়লে কাউকে একটা শব্দও জিজ্ঞেস না করে সম্পূর্ণ আবেদনটি নিজে করতে পারবেন। বিজয়ে দেখা হবে স্বপ্নের শহর ইস্তানবুলে!
আর না বাড়িয়ে মূল পয়েন্টের দিকে পথ চলিলাম…
পয়েন্ট অনুযায়ী তথ্য দিতে চাই——
১। এই স্কলারশিপটা কি এবং প্রতি বছর কারা পায়:
এটি তুরস্ক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজেক্ট। তারা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে ২০১২ সাল থেকে বৃহৎ আকারে পুরো পৃথিবী থেকে ছাত্র আনা শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায়, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে ছাত্ররা এই স্কলারশিপে তুরস্কে আসা শুরু করে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে সর্বসাকুল্যে ৭০-৮০ জনকে এই স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। প্রত্যেক বছর ইউরোপ-আমেরিকা সহ বিশ্বের ১৫০ টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থীকে এই স্কলারশিপ দিয়ে থাকে।
২। পেয়ে গেলেন, তারপর কি কি সুযোগ-সুবিধা থাকছে:
ক. হোস্টেল: অনার্সের ছাত্রদের জন্য থাকা-খাওয়া সম্পূর্ন ফ্রি। মাস্টার্স এবং পিএইচডি ছাত্ররা প্রথম বছর এই সুবিধা পাবে। দ্বিতীয় বছর থেকে তাদের জন্য প্রতি মাসে থাকা-খাওয়া বাবদ ৫৫০ লিরা নগদ প্রদান করে থাকবে। কেউ চাইলে ফ্যামিলি সহ থাকতে পারবেন। খ. সরকারী হেলথ ইন্সুরেন্সগ. ইউনিভার্সিটি টিউশন ফিঘ. মাসিক বৃত্তি বাবদ অনার্সে ৮০০ লিরা, মাস্টার্সে ১১০০ লিরা এবং পিএইচডিতে ১৬০০ লিরা।ঙ. প্রথমবার তুরস্কে আসার সময় এবং কোর্স শেষে দেশে যাওয়ার সময় মোট দুইবার বিমানের টিকেট দেওয়া হয়। চ. প্রথম এক বছর (৯ মাস) ফ্রি তুর্কি ভাষা শিক্ষা কোর্স।ছ. ইউনিভার্সিটির মূল কোর্সে ভালো রেজাল্ট থাকলে ইরাসমুস সহ বিভিন্ন এক্সচেন্জ প্রোগ্রামে ইউরোপের যেকোন দেশে ১ সেমিস্টার/ ইয়ার পড়ার সুযোগ।
৩। আবেদনের সময়কাল:আবেদন প্রতি বছর জানুয়ারীর মাঝামাঝি শুরু হয়ে প্রায় একমাস চলমান থাকে। এ বছর ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারিতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩:০০ টায় শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে যেকোন দিন আবেদন করা যাবে। একসাথে পুরো আবেদন শেষ করতে হবে এরকম কোন শর্ত নেই। প্রথম দিন শুরু করে শেষ দিনও কমপ্লিট করতে পারেন।
৪। আবেদন করতে কি কি থাকা দরকার:
ক. অনার্সের জন্য আবেদন করতে আপনার এসএসসি/দাখিল এবং এইচএসসি/ আলিম পরীক্ষায় নুন্যতম ৭০% মার্ক থাকতে হবে। শুধুমাত্র মেডিকেলে আবেদনের ক্ষেত্রে ৯০% মার্ক থাকতে হবে।খ. মাস্টার্সের জন্য অনার্সের রেজাল্ট নুন্যতম ৭৫% মার্ক থাকতে হবে পাশাপাশি এইচএসসির ৭০% মার্ক।গ. পিএইচডির জন্য আবেদন করতে অনার্স এবং মাস্টার্সে ৭৫% মার্ক থাকা লাগবে, পাশাপাশি অনার্সের ৭৫% মার্ক।
মনে রাখবেন নূন্যতম মার্ক থাকলেই আবেদন করা যায়, কিন্তু স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য ভালো মার্ক সহ আরো কয়েকটি বিষয় থাকা জরুরী। সামনের পয়েন্টগুলোতে আরো বিস্তারিত পাবেন।
৫। বয়সসীমা:
১০.০১.২০২০ তারিখ অনুযায়ী হিসাব কষবেন! -অনার্সের জন্য আবেদন করতে সর্বোচ্চ বয়স ২১ বছর বা তার কম হতে হবে। -মাস্টার্সের জন্য আবেদন করতে সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর বা তার কম হতে হবে।-পিএইচডির জন্য আবেদন করতে সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর বা তার কম হতে হবে। -রিসার্চ/ পোস্ট ডক্টরেট প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে সর্বোচ্চ বয়স ৪৫ বছর বা তার কম হতে হবে।
৬। কাগজপত্র কি কি প্রস্তুত রাখবেন:
ক. পাসপোর্ট। আর পাসপোর্ট না থাকলে জন্ম সনদ অথবা জাতীয় পরিচয় পত্রের ইংরেজি কপি। খ. সকল একাডেমিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট গ. সকল একাডেমিক পরীক্ষার ট্রান্সক্রিপ্ট – অনার্সের জন্য এসএসসি এবং এইচএসসি – মাস্টার্সের জন্য এইচএসসি এবং অনার্স – পিএইচডির জন্য অনার্স এবং মাস্টার্স। গ. সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি।ঘ. রেফারেন্স/ রিকমেন্ডেশন লেটার। কমপক্ষে একটা অ্যাকাডেমিক হওয়া লাগবে। অ্যাকাডেমিক ছাড়াও অন্য কারো থেকে নিতে পারেন। রেফারেন্স লেটার একের অধিকও দিতে পারেন। * এইচএসসি দিয়েছেন রেজাল্ট এখনো হয়নি অথবা এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে আছেন। এমতাবস্তায়, প্রিন্সিপাল থেকে লিখিত সার্টিফিকেট নিয়ে আবেদন করা যাবে। * অনার্সের ফাইনাল রেজাল্ট হয়নি, পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ৭ম সেমিস্টার পর্যন্ত রেজাল্ট রয়েছে। এমতাবস্তায়, ৭ সেমিস্টারের মার্কশীট এবং এপেয়ারেন্স দিয়ে মাস্টার্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। *ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট দিয়ে অনার্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
৭। স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক:
যদি TOFEL, GRE, GMAT, SAT, YDS, YÖK Dil ইত্যাদির যেকোনটির সার্টিফিকেট থাকে, তাহলে ইংরেজী মাধ্যমে পড়ার আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে IELTS গ্রহন করা হয়না। তুর্কি মাধ্যমে পড়ার জন্য কোন ধরনের ইংরেজি সার্টিফিকেট ছাড়া আবেদন করতে পারবেন। স্কলারশিপ শুধুমাত্র রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে দেয়া হয় না। সমপরিমান রেজাল্ট অনেকেরই থাকে। সবার থেকে আপনাকে যেটা আলাদা করবে তা হলো এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যত ধরনের ভলেন্টিয়ারিং কাজে অংশগ্রহন করেছেন সব দিবেন। এর কোন সীমাবদ্ধতা নেই। বিভিন্ন সময় অংশগ্রহন করা সেমিনার, কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, সামার-উইন্টার ক্যাম্প ইত্যাদির সার্টিফিকেটও দিতে পারেন।আপনি যে সাবজেক্টের জন্য আবেদন করবেন সেই সাবজেক্ট রিলেটেড প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সার্টিফিকেট দিতে পারলে বেশি ভালো। কোন পত্রিকা, ম্যাগাজিনে লিখে থাকেলে সেটাও দিবেন। এ যাবৎ যতধরণের প্রাইজ পেয়েছেন সব গুলো দিতে পারেন।
৮। আবেদন কিভাবে এবং কার সহায়তা নিয়ে করবেন:
স্কলারশিপ আবেদন পুরোটা অনলাইনে করতে হয়। এই লিংকে গিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মেইল দিয়ে একটা একাউন্ট খুলে ফেলবেন। তারপর যেসব তথ্যাবলি চাইবে সেগুলো দিয়ে একের পর এক পূরন করবেন। যেটা পূরন করবেন অটো সেইভ হয়ে যাবে, তাই চিন্তা করবেন না। একদিনে বা এক বৈঠকে করতে হবে এরকম কোন নিয়ম নেই। আপনি একদিন এক অংশ করেন। চাইলে পুরো মাস ব্যাপী করতে পারেন। খুব ভালো করে পড়ে যথাযথভাবে করবেন।
৯। লেটার অব ইনটেন্ট কি:
খুব সহজ ভাবে বললে Personal Statement, Statement of Purpose অথবা Personal Essay যাই বলনু না কেন সব লেটার অব ইনটেন্ট। মাস্টার্স, পিএইচডিতে আবেদনের জন্য যারা স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) লেখেন সেটাকে লেটার অব ইনেটেন্ট। আর অনার্স লেভেলেযারা পার্সনাল স্টেটমেন্ট অথবা পার্সনাল এসে (Essay) লিখেন সেটাই আপনাদের লেটার অব ইনটেন্ট।
স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য রেজাল্টের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো লেটার অব ইনটেন্ট।বিষয়টা অনার্সের ক্ষেত্রে সহজ হলেও মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে এগুলো চিন্তা করে লিখতে হবে।অনার্সের জন্য সহজ সরল ভাষায় লিখবেন, কি করতে চান! ভবিষ্যতে কি করবেন! কেন তুরস্ক! এসব সুন্দর করে প্রশ্ন অনুযায়ী লিখবেন। আর মাস্টার্স এবং পিএইচডিতে আপনি কি নিয়ে থিসিস করতে চান সেটা নিয়ে প্রপোজাল দিতে হবে। তাদের পছন্দ হলে এটাই হয়ে যেতে পারে আপনার স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য সীমাবদ্ধতা থাকবে। সেটার প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন।
১০। লেটার অব ইনটেন্ট কিভাবে লিখবেন:
প্রথমে দেখে নেই তুরস্কের সরকারি বৃত্তির আন্ডারগ্রাজুয়েট/পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রার্থীদের লেটার অব ইনটেন্ট বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট এর Prompt কেমন: “In this section, it is expected to explain following details: your academic and social experiences relating the field you want to take an education, your reasons for choosing Turkey for study and the importance of your future plans for your education and scholarship in Turkey. You can write a letter of intent in the language you can express yourself.”পুরো Prompt এ যে বিষয়গুলোকে আপনার লেটারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে সেগুলো হল: ক. আপনি যে বিষয়ে অনার্স করতে চান সে বিষয় সম্পর্কিত আপনার অ্যাকাডেমিক এবং সামাজিক অভিজ্ঞতা।খ. উচ্চশিক্ষার জন্য তুরস্ককে কেন পছন্দ করলেন।গ. আপনার ডিগ্রী বা শিক্ষা এবং তুরস্কের বৃত্তির জন্য আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব।
পোস্টগ্রাজুয়েট প্রার্থীদের জন্য আরও ৬টা প্রশ্ন আছে। সেগুলো নিচে আলোচনা করা হলো: মাস্টার্স এবং পিএইচডির জন্য আপনাকে এই ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে…1- Subject of study/ Title of study আপনি যে বিষয়ে মাস্টার্স/ পিএইচডির চিন্তা করেছেন সেটাকে এক লাইনে লিখবেন।
2- Analysis of the Problem (at least 75, maximum 300 words) (In this section, briefly describe the topic and your theory (concept map) to be used in the study.) (3000 Characters)আপনার টপিকস কে আরেকটু ক্লিয়ার করে লিখবেন। মূলত কাজটা কি হবে, কেন এবং কিভাবে করবেন। এতে সমাজের বা দেশের কি ফায়দা হবে।
3- Research Method (minimum 50, maximum 300 words)”(Give information about the academic research methods you intend to use in this study. For example, in-depth interviews, observations, surveys, experiments, etc.) For example, in-depth interviews, observations, surveys, experiments, etc. (3000 Characters)
মেথোডলজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আপনার থিসিস কোন মেথডে করবেন বিস্তারিত লিখবেন। থিসিসে কোন ধরণের ডাটা ব্যবহার করবেন। অথবা প্রতিষ্ঠিত কোন মতবাদের উপর ভিত্তি করে করতে চাইলে সেটাও স্পস্টভাবে উল্লেখ করতে পারেন।
4- General Structure of the Study (at least 75, maximum 300 words) Write the main headings of the study.) (3000 Characters)
আপনি যেটা নিয়ে থিসিস করবেন, সেটার পুরো প্ল্যান এখানে দিবেন। এককথায় থিসিসের সুচিপত্র দিবেন।
5- Academic Contribution of the Study (minimum 75, maximum 300 words) (Explain how this study will contribute to your academic field.) (3000 Characters)
যে লিটারেচার রিভিউ করে কাজটি শুরু করেছেন। আপনার কাজের দ্বারা অ্যাকাডেমিক কন্টিবিউশন কি হবে। স্পেসিফিক বা মৌলিক কোন পরিবর্তন হবে কিনা!
6- Literature Review (at least 75, maximum 300 words)(Please write down the main academic sources written in this study area.) (3000 Characters)
লিটারেচার বাচাইয়ের ক্ষেত্রে চিন্তা করে করবেন। এক্ষেত্রে সমসাময়িক লিটারেচার গুলোকে বেশী প্রাধান্য দিতে পারেন।
-Additional item if you have a subject in your application documents that you think is not clear enough and you want to explain, or if you want to draw the attention of the evaluation committee, please briefly explain in this section. You can write the description in the language you can express yourself. (3000 Characters)
মাথায় অনেক কিছু, কিন্তু লিখে শেষ করতে পারেননি। সমস্যা নেই এখানে মাথায় বাকি যা আছে লিখে ফেলেন। অবশ্যই প্রোডাকটিভ কিছু লিখবেন।
**থিসিসের জন্য আপনি মোটামুটি একটা স্ট্রাকচার দাড় করান। স্কলারশিপ হওয়ার পর সুপারভাইজার এর সাথে পরামর্শ করে সংযোজন-বিয়োজন অথবা পরিবর্তন করতে পারবেন।
১১। রেফারেন্স লেটার কার থেকে নিবেন এবং কতটা নিবেন:
আবেদনের জন্য একটি রেফারেন্স/ রিকমেন্ডেশন লেটার বাধ্যতামূলক। তবে দুই বা তার অধিকও হতে পারে। মিনিমাম দুটো দেওয়া ভালো। এক্ষেত্রে আপনার শিক্ষক থেকে নিলে ভালো হয়।যে বিষয়ে আবেদন করবেন ওই বিষয়ে অথরিটি আপনাকে সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে কি কি করতে পারবেন। সংক্ষেপে এসব লিখতে পারে।
আর মাস্টার্স এবং পিএইচডির ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ইউনিভার্সিটি সুপারভাইজার অথবা ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান থেকে নিবেন। যার থেকেই নেন তাদের মোবাইল নাম্বার ও ইমেইল এড্রেস লিখতে হবে। অথরিটি আপনার রেফারিকে মেইল করবেন। এতে উনি রিপ্লে দিতে হবে।
১২। তুর্কি ভাষা কি শিখতেই হবে:
সরকারি স্কলারশিপ পাওয়া মানে আপনাকে প্রথম বছর তুর্কি ভাষা শেখতেই হবে। অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডি সবারই শেখতে হবে। আপনি ইংরেজী/ আরবী মাধ্যমে পড়ার সুযোগ পেলেও ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক। সম্পূর্ন ফ্রিতে বিদেশী একটা ভাষা শিখবেন। ভাষা না শিখলে তুরস্কে পড়াশোনা করেও মজা পাওয়া যাবেনা।
১৩। লিখিত পরীক্ষা কাদের জন্য এবং কেমন হবে:
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর আন্ডারগ্রেজুয়েট অ্যাপ্লিক্যান্টদের ম্যাথমেটিক্স এর উপর একটি MCQ টাইপের পরীক্ষা হবে।মোট ম্যাথ: ১২ টিসময়: ৩০ মিনিটটপিকস: ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি, ধারা, ফেক্টরিয়াল, দ্বিপদী বিস্তৃতি।আর এই পরীক্ষায় ভয়ের কিছু নেই। প্রশ্নগুলো সাধারণত বেসিকের উপর হয়। এটা ২০১৯ এর পদ্ধতি। এ বছর কিছু পরিবর্তনও হতে পারে আবার নাও হতে পারে। মূলত এটা পুরোটাই স্কলারশিপ কমিটির উপর নির্ভর করছে।
১৪। ভাইভা কিভাবে হবে এবং কারা নিবেন কোন ভাষায় দিবেন:
আবেদনের প্রায় ২ মাস পর ভাইভার জন্য ডাকবে। ভাইভাতে ডাক পাওয়া মানে সবেমাত্র শুরু।এতে বুর্সলারী অথরিটি আপনার সাবজেক্ট/ ফিল্ড রিলেটেড কিছু প্রশ্ন করবে। এবং আবেদনের সময় আপনি যে সকল ডকুমেন্টস আপলোড করেছেন সেগুলোর মুলকপি দেখতে চাইবে। ভাইভা ইংরেজি ভাষায় হয়, তবে আপনি ইংরেজিতে দূর্বল হলে বাংলাতে দিতে পারবেন। একজন দোভাষী থাকবে। ইংরেজিতে দিতে পারলে ভালো। নতুবা আপনার দুর্বলতা প্রমান পাবে। না পারলে পরে অর্ধেক গিয়ে আটকা পরার চাইতে ইংরেজিতে না বলা ভালো।সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইবে। আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। এসব নির্ধিধায় উত্তর দেওয়া লাগবে। ভাইভা দিয়ে বের হওয়ার সময় ফাইনাল রেজাল্ট কখন দিবে সেটাও বলে দিবে।
১৫। কোন কনসালটেন্সি দিয়ে আবেদন করলে স্কলারশিপ পাবেন:
প্রশ্নই আসেনা। কারো সহযোগিতা ছাড়া নিজে নিজে আবেদন করবেন।অনেকে এসব করে লক্ষ্য-লক্ষ্য টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। নিয়মিত প্রতারণা হচ্ছে। যতদূর পারবেন তাদের থেকে দূরে খাকবেন। আপনি আবেদনের সময় কোন সমস্যার মুখোমুখি হলে সরাসরি এই গ্রুপে গিয়ে সিনিয়রদের পরামর্শ নিন। গ্রুপে ডুকে প্রথমে ফাইল অপশনে গিয়ে সব ফাইল পড়বেন। ওখানে না পাওয়া গেলে প্রশ্ন করবেন। নিজের আবেদন নিজে করার মধ্যে কল্যাণ আছে।
১৬। স্কলারশিপ পাওয়ার পর তুরস্কে আসতে কত টাকা খরচ হতে পারে:
সরকারি স্কলারশিপ প্রাপ্তদের ভিসা ১০০% পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কোন খরচ লাগবেনা। শুধুমাত্র মেডিকেল করানোর জন্য ১০ হাজার টাকার মতো লাগবে, এছাড়া আর কোথাও টাকা লাগবেনা। ভিসা দেওয়ার পর ইমেইলে বিমানের টিকেট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
১৭। তুরস্কে আপনাকে কারা সহযোগিতা করবে:
আপনি স্কলারশিপ প্রাথমিক রেজাল্ট পাওয়ার পর থেকে শুরু করে ইন্টারভিউ, ভিসা প্রসেসিং, টিকেট পাওয়া ,এয়ারপোর্টে রিসিভ করা, হোস্টেলে পৌছিয়ে দেওয়া, ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করানো এবং রেসিডেন্স পারমিট সহ সব কিছুই সিনিয়ররা মানে বাংলাদেশ কমিউনিটি করে দিবে। এসবের জন্য আপনার জন্য চিন্তা করতে হবেনা।
১৮। ইউনিভার্সিটি কিভাবে পছন্দ করবেন:
আবেদনের সব পয়েন্ট শেষ করার পর আপনাকে সাবজেক্ট ও ইউনিভার্সিটির লিস্ট দেয়া হবে। সর্বোচ্চ ১২টা ইউনিভার্সিটি পছন্দ করতে পারবেন। চাইলে শুধু একটা পছন্দ দিয়েও আবেদন শেষ করতে পারবেন। ইউনিভার্সি পছন্দের ক্ষেত্রে আপনার যোগ্যতা, রেজাল্ট এসব খেয়াল রাখবেন। অনেক সময় আপনার দেওয়া পছন্দের বাহিরের কোন ইউনিভার্সিতেও দিতে পারে। বড় শহর গুলোতে আসনের তুলনায় বেশি আবেদনকারী থাকে তাই পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। ছোট শহর গুলোতে সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। ইউনিভার্সিটি র‍‍্যাংকিং অবশ্যই খেয়াল করবেন।
১৯। তুরস্কে বাংলাদেশীদের অবস্থান:
বর্তমানে প্রায় সাত শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী পড়ালেখা করেন। এর মধ্যে অর্ধেক ইস্তানবুলে আর বাকীরা আনকারা, কনিয়া, বুরসা, কায়সেরী, সাকারিয়া, খোজায়লি, এসকিশেহির, পামুক্কালে, ইসপারতা, এরজুরুম, ইজমির এবং ট্রাবজন সহ আরে কিছু শহরে। প্রতি বছর একটা সংখ্যা আসতেছেন আবার অনেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে তুর্কি ত্যাগ করে কেউ ইউরোপে আবার কেউ দেশে চাকুরীতে জয়েন করতেছেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন প্রোগ্রাম উপলক্ষে এবং আনকারায় বাংলাদেশ এ্যাম্বেসী আর ইস্তানবুলে কনস্যুলেট এর বিভিন্ন ইভেন্টে সবাই একসাথ হওয়ার সুযোগ হয়। কিছু ব্যবসায়ী, চাকুরীজীবি, ডাক্তার, ইউনিভার্সিটি শিক্ষক এবং ফ্যামিলি আছেন এদের বড় একটি সংখ্যা ইস্তানবুলে বসবাস করেন। আরো কিছু বাংলাদেশী আছেন যারা নব্বইয়ের দশকে এসেছেন, পড়ালেখা শেষ করে এখানেই স্যাটেলড এবং পাশাপাশি তুরস্কের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
২০। বিস্তারিত যেখানে পাবেন:
ক. Turkey Scholarship for Bangladeshi Studentshttps://m.facebook.com/home.php?_rdr#!/profile.php?id=331137687085930&ref=content_filter
খ. স্কলারশিপ আবেদনের লিংক: https://tbbs.turkiyeburslari.gov.tr/
গ. বুর্সলারির ওয়েবসাইট লিংক:www.turkiyeburslari.gov.tr/
স্যরি! কপি করবেন না, ইনফরমেশনে ওলট-পালট হয়ে যেতে পারে। সবাইকে জানানোর সুবিধার্থে লেখাটি শেয়ার করতে পারেন।
সবার জন্য শুভ কামন া থাকবে!

ওমর ফারুক হেলালী

মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্তানবুল

১০/০১/২০২০

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

Designed by Alamin Moni

Copyright© BASAT 2019-2020

error: Content is protected !!