Bangladesh Students' Association in Turkey BASAT

বাসাত আয়োজিত “The future of Islamic world” শীর্ষক সেমিনার এবং কিছু উপলব্ধি

বাসাত আয়োজিত “The future of Islamic world” শীর্ষক সেমিনার থেকে বেশ মজার ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানতে পেরেছি যা সবার সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা। তুরস্ক ভাষার নবীন ছাত্রী হিসেবে বুঝার ও লেখার ভুল থাকতে পারে; এজন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সেমিনারে UDEF সভাপতি ড. মেহমেত আলী বোলাত-এর যে কথাগুলো চিন্তার খোরাক যুগিয়েছিল:- 1. “Nüfus yoksa gelişim yok” অর্থাৎ, যেখানে মানুষ নেই, সেখানে উন্নতি নাই। করোনা এবং লকডাউনের কারণে আজ মানুষ গৃহবন্দী। মানবজাতির এই গৃহবন্দিত্বের সুযোগে প্রকৃতি তার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে। চারিদিকে যেমন সবুজের সমারোহ বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে পাখপাখালির গান, সাগরে দেখা মিলছে ডলফিনের, বিস্তৃতি ঘটেছে বিশুদ্ধ আবহাওয়ার… আরো কত কি! এমতাবস্থায় অনেকে মন্তব্য করে বসেছেন, ‘মানুষ ছাড়াই বরং এ পৃথিবী সুন্দর। এ পৃথিবীর বেড়ে উঠায় মানুষের নেই কোন প্রয়োজন!’ কথাটি কতটুকু সত্য?? আসলেই কি ‘সে মানবজাতি’ যার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে পুরো বিশ্ব ভ্রম্মান্ড তার কোন প্রয়োজন নেই এ পৃথিবীতে!? নাকি প্রয়োজন এই মানবজাতির সত্যিকারের মানবিক হওয়ার এবং মানসিকতার পরিবর্তন…? 2. Okumak üç şeydir : ‌kitap okumak ‌Gezerek bilmek ‌İnsan yüzü okumak অর্থাৎ, জানা ৩ ধরণেরঃ ১. বই পড়ে জানা, ২. ভ্রমণ করে জানা এবং ৩. মানুষ পড়ে জানা। আমরা যদি আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে চাই তবে, শুধু বইয়ের পাতায় আটকে থাকলেই হবে না। বই থেকে পরোক্ষ জ্ঞানলাভের পাশাপাশি বাড়াতে হবে ভ্রমণ- যাতে বিভিন্ন জায়গার পরিবেশ ও জীবনযাত্রা থেকে বাস্তবিক জ্ঞান লাভ করা যায়। সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে “মানুষ পড়ে জানা” অর্থাৎ বিভিন্ন জাতি-গোষ্টি-ধর্ম-বর্ণের মানুষের সাথে মেলামেশা এবং তার চিন্তা ধারণা জানার মাধ্যমে জ্ঞানলাভ করা। একজন মুসলিম হিসেবে এভাবেই ত্রিমুখী জ্ঞানলাভে আমাদের সক্রিয় হওয়া উচিত। 3. Herkes önce müslümandır, milletler özelliktir. অর্থাৎ, “সবার প্রথমে আমাদের পরিচয় মুসলিম, জাতি/দেশগত পরিচয় আমাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ” একজন মুসলিম কখনোই সংকীর্ণ জাতিস্বার্থে আবদ্ধ থাকেনা। “সর্বাগ্রে মুসলিম পরিচয়” আমাদের নিঃস্বার্থ এক ঐক্যের দিকে নিয়ে আসে; যার জন্য আমরা কে তুর্কী, কে বাঙালি তা ভুলে গিয়ে সামগ্রিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করি। ইউরোপের দেশগুলো ‘Erasmus’ এর মত স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তাদের মধ্যকার ঐক্য সংহতি শক্ত করছে। মুসলামানদেরও এমন কিছু পরিকল্পনা ধরে আগানো উচিৎ। ‘বাসাত’ আয়োজিত এই আলোচনার মাধ্যমে তথ্যগত বিষয় ছাড়াও আচরণগত বেশ মজার একটি বিষয় অবলোকন করলাম! অনলাইন অনুষ্ঠানগুলোর একটি অসুবিধার দিক হলো, আলোচনার মাঝখানে বাড়ির ছোট সদস্যদের আগমণ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি ও তুর্কীদের ভিন্নরকম প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলাম। বাংলাদেশি বক্তারা আলোচনার মাঝখানে ছোটরা আসলে তাদের সরিয়ে দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আর তুর্কী বক্তা দেখি ঠিক তার উল্টো! অনুষ্ঠানের মাঝখানে ছোট ছেলে আসতেই তাকে কোলে নিয়ে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন, ড. বোলাত। তার সকল প্রশ্নের জবাব দিলেন; অতঃপর প্রোগ্রামের কথা বুঝিয়ে বলে তাকে বিদায় দিলেন। ছেলেটিও বুঝ পেয়ে চলে গেল। কাজ ও পরিবারকে সমান গুরুত্ব দিলে কত জটিল বিষয়ই না সহজ হয়ে যায়!

Saeeda Lubaba

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

Designed by Alamin Moni

Copyright© BASAT 2019-2020

error: Content is protected !!

লেখক পরিচিতি

Saeeda Lubaba

Saeeda Lubaba is a student of Economics at Karabuk University, Turkey. She had her graduation in Economics & Banking from International Islamic University Chittagong (IIUC), Bangladesh.
Lubaba loves learning through travelling and meeting new folks, reading books and natural photography. She is also an emerging writer having publications (specially poems) in different youth magazines. As a young researcher, Lubaba works in the field of Economics and Finance.