Bangladesh Students' Association in Turkey BASAT

করোনাময় জীবন দর্শন!! বিচিত্র আর অকল্পনীয় এক দুনিয়ার মুখোমুখি: প্রভাব আর প্রতিকার

ঘড়ির কাঁটা থেমে নেই। প্রতিটি মুহূর্তেই জীবন থেকে একটি একটি করে সময় হারিয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে জীবনের প্রায় ২৮টা বসন্ত পার হয়ে এসেছি। ভাবতে পারিনি প্রায় আড়াই মাস ধরে গৃহবন্দিত্ব জীবন কাটানোর মাঝে এই বসন্তটিও হারিয়ে যাবে। জীবনঘাতী করোনা ভাইরাস যেমনিভাবে বিপন্ন করেছে আমাদের জীবন তেমনিভাবে স্তব্দ করে দিয়েছে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। আবেগ, অনুযোগ কিংবা অভিযোগ-গুলো যেনো একাকার হয়ে গেছে। করোনা আজ স্বাধীনতার সুখ কবিতার কল্পিত কুড়ে ঘরে থাকা শিল্পের বড়াই আর মহাসুখে অট্রালিকায় থাকা মানুষের ভেদাভেদ কমিয়ে দিয়েছে। প্রথম বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নেই আমাদের। যা কিছু ইতিহাস পড়ে জানা। কিছুটা সাহিত্য বা সিনেমা থেকে জ্ঞান আহরণ। এই দুই মহা বিশ্বযুদ্ধ যতটা না ক্ষতি করেছে পৃথিবীর তার চেয়ে অনেক গুণ বেশী ক্ষতি করেছে এই করোনা ভাইরাস। ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ছিলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তর। কোটি মানুষ খাবারের অভাবে মারা যায়। আজ আমরা হয়ত আরেকটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের দিকে ধাবিত হচ্ছি যেমনটি জাতিসঙ্ঘের আশি কোটি মানুষ দরিদ্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

ছবি: ভয়ানক করোনা জীবাণুর কল্পিত রূপ

চীনের উহান থেকে করোনা ভাইরাস বিশ্বের প্রায় ২০৫ টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ৫১ লাখ ১ হাজার ৯৬৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে মারা গেছেন ৩ লাখ ৩২ হাজার ৯০০ জন। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনায় দিন দিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। মৃত্যু প্রতিটি মানুষের জীবনে অবধারিত। জন্ম মানেই মৃত্যু। মানুষ সব কিছুইকে জয় করতে পারে, কিন্তু মৃত্যুকে নয়। মৃত্যু চিরন্তন সত্য। কিন্তু এ কেমন মৃত্যু? কি নিষ্ঠুর নিয়তি! মানুষের আবিষ্কৃত কোন বিজ্ঞানই কাজ করছে না। এখন পর্যন্ত করোনা রোধে কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। করোনাভাইরাস কোনো ধর্ম-বর্ণের জন্য আসেনি, এসেছে সকলের জন্য। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজা বাদশা পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, ফায়ার ফাইটার, সমাজ সেবক, শিক্ষক, ট্রেন ও বাসের ড্রাইভার এবং সিটির কর্মকর্তা কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না। সবাই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং জীবন দিচ্ছেন।

ছবি: গণপরিবহনে একাকী যাত্রী

জীবন মাঝে মাঝে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। নিখুঁত পরিকল্পনাগুলোও ভেস্তে যায়! এইতো কয়েকমাস আগের কথা আমরা কি কেউ ভেবেছি আগামী কয়েক মাসে করোনা নামক মরণঘাতী লক্ষ লক্ষ জীবন কেড়ে নিবে !! আকাশে উড়ছে না উড়োজাহাজ, জল পথে চলছে না জলযান, রাস্তায় চলছে না গাড়ি, বিদ্যালয়ে চলছে না ক্লাস, কল কারখানায় ঘুরছে না চাকা, হাট-বাজার মাঠ-ঘাট সব ফাঁকা। দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, বিনোদন কেন্দ্র, যানবাহন সব বন্ধ; নিস্তব্ধ প্রকৃতি !! অসহায়ের মত নিরানন্দ আর নিস্তব্ধ জীবন কেটে যাচ্ছে। শত ব্যস্ততা হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে শান্ত হয়ে গেল পুরো চীন। এ যেন শুধুই ছুটে চলা শ্রান্ত ক্লান্ত যান্ত্রিক মানুষগুলোকে জোর করে ছুটি দেয়া। বনের বাঘ সিংহকে খাঁচায় বন্দী রাখা মানুষগুলোকে এখন ঘরের খাঁচায় বন্দী করেছে চোখে দেখা যায় না এমন এমন জীবাণু-মানুষ যার নাম দিয়েছে করোনা। জীবনের বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। এটাই জীবন। জীবনের বাস্তবতার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যতই নিষ্ঠুর হউক বা যতই কষ্ট হউক তা সয়ে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনেই। যেটা করোনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। 

এখন মাঝে মাঝে জীবনের অনুভূতি শূন্য হয়ে যায়। চার দেয়ালের বন্দী ঘরে যেনো সময় কাটছে না। গল্প কবিতা উপন্যাস, হেলেন কিংবা ক্রুসেড, সাইমুম কিংবা সিরাত, ইতিহাস সমৃদ্ধ সিরিজগুলো দেখেও যেনো সময় রয়ে যায়, এ যেন জেলখানা কিংবা খাঁচায় বন্দীদের মত এক অরক্ষিত দেয়ালে বন্দী। মুক্ত বাতাসে হাটার আকুল ইচ্ছাগুলো যেনো আজ মরিচিকায় পৃষ্ঠ। আমরা যেনো এক সীমাহীন নিস্তব্ধতা নির্জনতার প্রেমে আটকা পড়ে আছি। আজ যেনো অস্ত্রের ঝঞ্ঝনানিতে সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন, মায়ানমার, চেচনিয়া, বসনিয়া, উইঘুর সহ নির্যাতিত জনপদগুলো কাঁপছে না। করোনা সংকট কালের স্বাক্ষী হয়ে ইতিহাসে চির অমর হয়ে থাকবে। ঈদ উৎসবে ও মানুষ বাঁচার প্রত্যয় নিয়ে ঘর বন্ধি থাকবে। এ যেন বিধিহীন করোনার শিক্ষা। বেঁচে থাকার অভয়ে ঘরে থাকার সুশিক্ষা। এবার বুঝি করতে হবে অন্যরকম ঈদ। দূরে গিয়েও ফিরে আসার স্বপ্নটা পিছু ছাড়ে না। প্রিয়জনের সাথে জুড়ে থাকার  সুযোগ  হচ্ছে না।  এবার স্বপ্ন বাড়ি যাবে না, বাধভাঙ্গা উল্লাসে মেতে উঠবে না হৃদয়। স্বপ্ন আজ কোয়ারেন্টাইন জালে বন্দী। “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” বলে আনন্দে মাতোয়ারা হয়তো কেউ হবে না। তুই পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে হয়তো যাওয়া হচ্ছে না।

কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের দুশ্চিন্তার কালো মেঘ সরছে না কিছুতেই। বিশেষ করে সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের অবস্থা আরো কঠিন। বাড়ি ভাড়ার জন্য মালিকের অনবরত চাপ, পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় করার স্বপ্নগুলো কল্পনায় রয়ে যাচ্ছে। মানুষ শেষ পর্যন্ত তাদের গর্বিত মাথা নীচু করে নিঃশব্দে ভাবতে শুরু করেছে-আমরা কি আসলেই পৃথিবীর রাজা? মানবজাতি অবশেষে আবার প্রকৃতির শক্তি অনুভব করছে? অনুভব করছে অদৃশ্য এক অপরিসীম মহা শক্তির! স্বার্থপর নিষ্ঠুর আর লোভী হৃদয়গুলোকে ভাইরাস দ্বারা শুদ্ধ করা হচ্ছে। পারিবারিক জীবনযাপনগুলি জীবন পায়নি অনেকদিন। প্রিয় মুখগুলো এক সাথে এক টেবিলে মুখামুখি অনেকদিন পর। শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত মানুষেরা হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মুখগুলো আবার খুঁজে পেয়েছে। বছরের পর বছর পড়ে থাকা বইগুলো অলস পাঠক পেয়েছে অনেক বছর পর।

ছবি: অচেনা এক নগরীর রূপ নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত লন্ডন নগরী

জীবন এত ক্ষণস্থায়ী বলেই মাঝে মাঝে সবকিছু এমন সুন্দর মনে হয়। তাইতো জর্জ হারবার্টের কথাটি মনে পড়ে জীবনের প্রতি মানুষের মায়া অপরিসীম, জীবনকে ভালোবাসে বলেই এত দুঃখ-কষ্ট সংগ্রামের মধ্যেও মানুষ বেচেঁ থাকে | শুধু লন্ডন কেন বিশ্বের বিভিন্ন শহরের অবস্থা এখন যেমন, শিউরে উঠতেও পারেন যে কেউ। পুরো অচেনা ভুতুরে নির্জীব নিস্তব্ধ এক নগরীর রূপ নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম নগরীগুলো। চারদিকে খাঁ খাঁ! রাজপথ, হোটেল, রেস্তোরাঁ, সব শূন্য। মনে হতে পারে উনিশ শতকে ফিরেছে ইউরোপ আমেরিকা তুরস্কের মত দেশগুলো। প্রায় নিস্তব্ধ চারদিক। হঠাৎ চোখে পড়বে মানুষের আনাগোনা। গাড়ি-ঘোড়া চলছে দু’-একটা। নেই উৎসব, নেই পার্টি, নেই বাদ্য- রাতভর উদ্দাম পরিবেশ। থিয়েটার জনশূন্য, পাবগুলো খালি। ভয়ঙ্কর এসব পরিবেশের পিছনে একটিমাত্র কারণ- করোনাভাইরাস। এমনই এক দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে পৃথিবীর অনেক শহরের বাসিন্দারা নিজেদের বারান্দায় দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের কাতারে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি সম্মান জানায়। ইতালিতে ঘরের মধ্যে আটকে পড়া মানুষেরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রতিবেশীর তরে গান গাইছে, প্রতিবেশীর ঘরে ভালোবাসার আওয়াজ পৌঁছে দিচ্ছে। তাতে নিজের ঘরের মানুষও সহজ আনন্দ পেতে পারছে।

ছবি: বাড়ির জানালা ও বারান্দা থেকে একসঙ্গে গেয়ে, গিটারে সুর তুলে নিজেদের মধ্যে সাহস সঞ্চার করে যাচ্ছেন ইতালীয়রা।

মানুষের মানবিকতা ও হৃদ্যতাকেও নাড়া দিয়ে যাচ্ছে এই করোনাভাইরাস। আমরা একটা বিশাল ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এটা সত্য, কিন্তু, আশার কথা হলো, এর ফলে আগের চেয়ে মানুষ বেশি সচেতন, সভ্য, মানবিক ও হৃদায়ক হবে। গৃহবন্দি জীবনে বাড়ছে অস্বস্তি, কিন্তু শক্তিশালী হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন। আমার ভাষায় বীর তারাই যারা এর সংক্রমণ রোধে ঘরেই অবস্থান করছেন এবং একান্ত জীবন সাধনায় মনোনিবেশ করে সৃষ্টির লীলাবিলাস অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করছেন। ভয়াবহ বিপদ কিংবা দুর্যোগের সামনে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। একে অন্যের কাছে আশ্রয় খোজেঁ, আশ্রয় খোঁজে প্রকৃতির কাছে। সবাই দাঁড়িয়ে যায় একই কাতারে। বৈষম্য ও অনাচার বেষ্টিত এই আবাসভূমি হয়ে যায় সাম্যবাদের উৎকৃষ্ট নিদর্শন। এক একটি দিন শেষ করে আমরা এগুতে থাকি চুড়ান্ত যাত্রার পথে। মানবমৃত্যুই পথের সমাপ্তি। নিরন্তর ছুটে চলা মানুষের শেষ গন্তব্য। আমরা ভুলে যাই-তিনি স্রষ্ঠা আর আমরা তাঁর খুব সামান্য এক সৃষ্টি। সবাই মারা যায়। কিন্তু সবাই চলে যায় না। নিঃস্বার্থ কর্মী মানুষরা মৃত্যুর পরও থেকে যায়, কর্মপূণ্যে থেকে যায় মানুষের মনে – যুগের পর যুগ ধরে। আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের, আমি চিরতরে দূরে চলে যাব তবু আমারে দেব না ভুলিতে।

করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর আগে বিশ্ব যে অবস্থায় ছিল; সেই স্বাভাবিক জীবন আর নাও ফিরতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষ এক মার্কিন বিজ্ঞানী। জীবনে ছন্দ ও পরিকল্পনা দুই-ই লাগবে। সতর্কতা মেনে এই সহাবস্থান না হলে জীবন আবার থমকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে। এই সময়ের মধ্যে কী কী জেনেছি এবং বুঝেছি, সেগুলো স্পষ্ট করা জরুরি। ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘরে থেকে কাজ করা। বর্তমান জীবনযাত্রা, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, পৃথিবীকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছুর ওপরই এই সময়টির একটি গভীর ছাপ থেকে যাবে। শুধু নিজের জন্য বাঁচতে গেলে প্রকৃতিও যে ছাড় দেয় না। তাই অন্যকে বাচাঁনোর থিওরিতেও চলতে হবে। বাঁচতে হলে সবার প্রতি সবার এমন ভালোবাসাই এখন জরুরি। অন্যের সুস্থতা এখন আমার নিজের, পরিবারেরও সুস্থতার শর্ত। অপরকে বাঁচালে নিজে বাঁচি—এটাই হওয়া উচিত আজকের নীতি। এটি বুঝতে পেরে আমরা যেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের কথা মাথায় রেখে নতুন আঙ্গিকে নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তোলি। করোনা একসময় হার মানবে, আবার জীবন স্বাভাবিক হবে। কোয়ারেন্টিনের মধ্যেও তাই আমাদের সমাজ ও মানবিকতা বাঁচিয়ে রাখা দরকার। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশ গুলোতে এমন যাতে না হয় জীবন বাঁচাতে গিয়ে জীবিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে অথবা জীবিকা বাঁচাতে গিয়ে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। নদীতে ঢেউ দেখে, পাড়ে নৌকা ডুবিয়ে দিলে হবে কী? যেহেতু,”করোনা ভাইরাস” নামক ব্যাধির বিস্তার ঘটেছে, সেহেতু তাকে প্রতিহত করা সকলের সর্তকতা বাঞ্ছনীয়। সমাজচিন্তক আর মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আপাতত সাহস, ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বড় হাতিয়ার।

ছবি: কল্পিত আলোর সঞ্চারী

ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?-প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন। আসছে নবীন-জীবন-হারা অসুন্দরের করতে ছেদন! এই সংকটময় সময়ে আমাদেরকে সব কিছুতে হিসেবি হতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি ফান্ড গঠন, সময়মত ঋণ পরিশোধ, নির্দিষ্ট বাজেট  প্রণয়ন, পরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা মেনে চলার মাধ্যমে করোনার ক্ষতিপূরণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। হ্যান্ড সেনিটাইজার বা সাবান পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শাক সবজি ও পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খাওয়া। যোগ ব্যায়াম, ধ্যান, প্রার্থনা বেশি করে করা। এই গুলার মাধ্যমে করোনা নামক ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকা  যাবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। 

পরিশেষে বলতে চাই আল্লাহর সিন্ধান্তই সবার জন্য মঙ্গলজনক কেননা তিনি সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী!

“বস্তুত তোমরা এমন বিষয়কে অপছন্দ করছো যা তোমাদের পক্ষে বাস্তবিকই মঙ্গলজনক। পক্ষান্তরে, তোমরা এমন বিষয়কে পছন্দ করছো যা তোমাদের জন্য বাস্তবিকই অনিষ্টকর এবং আল্লাহ্‌ই অবগত আছেন আর তোমরা অবগত নও” [সূরা বাকারাহ, ২ : ২১৬]

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

Designed by Alamin Moni

Copyright© BASAT 2019-2020

error: Content is protected !!

লেখক পরিচিতি

সাইয়্যেদ মাগফুর আহমদ

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা লক্ষীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ শহরে মাধ্যমিক শিক্ষা কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে ঢাকা শহরে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে তুরস্ক সরকারের পূর্ণ বৃত্তিতে তুরস্কে আগমন করেন। বর্তমানে তিনি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ইসলামী অর্থনীতি ও অর্থায়ন বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।বৈজ্ঞানিক সাময়িকে ইতোমধ্যে তাঁর দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন।লেখালেখী করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গবেষনার কাজে ব্যস্ত থাকায় হয়ে উঠে না, মাঝে মাঝে কিছুটা লেখার চেষ্ঠা করছেন। বর্তমানে বাসাত এর সহশিক্ষা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।