Bangladesh Students' Association in Turkey BASAT

মুসলমানদের পুনর্জাগরণে আবাস!

আসলে মুসলমানের ঈমান এখনও আছে, তবে সেই ঈমানকে জাগিয়ে তুলার মত রাহাবারের বড়ই অভাব আজ, এতদিন আয়া সুফিয়া মসজিদকে মিউজিয়াম করে রাখার কারণে তুর্কী জনগণের স্বাধীনতা (পূর্ণ স্বাদ পেতেন না) যেন খাচায় বন্দি ছিল। আজ তারা যেন মুক্ত বিহঙ্গের মত আয়া সুফিয়ার দিকে দেয়ে আসছে । একজন গবেষক টিভিতে লাইভে আয়া সুফিয়ার পুনরায় মসজিদের পর্যালোচন করতে গিয়ে তিনি ৩টা পয়েন্ট বলেন: 
১. ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়েছে; অথাৎ যে জন্য সুলতান ফাতিহ এটি ক্রয় করে ওয়াকফ করেছিলেন সেইটিই আমারা করতে পেরেছি।
২. সারা দুনিয়ায় তুর্কীদের বড়ত্ব (খিলাফত) ও স্বাধীনতা আবার প্রমাণিত হল। যদিও তা করতে বর্তমান ক্ষমতাশীন দলকে ১৮ বছর ও তুর্কী জনগণকে ৮৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে কৌশলগত কারনে। আপনারা ইতিহাস দেখলে বুঝতে পারবেন, তুর্কীরা কখনও কারো অধিনে ছিল না।
৩. সর্বপুরি মহান আল্লাহ আমাদের সাহায্য করছে।


আয়া সুফিয়া নিয়ে বিখ্যাত সংবাদিক ও শিক্ষাবিদের প্রতিক্রিয়া: তুরস্কে সবচেয়ে পরিচিত সংবাদিক জুনায়েদ ওজদেমির বলেন: আজ সারা পৃথিবীর চোখ আয়া সুফিয়ার দিকে অথচ দুর্ভাগ্য বশত ইস্তানবুলে বামদল থেকে নির্বাচিত সিটি মেয়র আঙ্কারায় একটি পৌরসভা পরিদর্শনে গেছেন, কি আর বলব!!! যদি জুমা আদায় করতে মন না চায় তাহলে নামাজের ১/২ ঘন্টা পর মসজিদটি পরিদর্শন করতে পারত। (দাওয়াত দেয়ার পরও তিনি বাহানা দিয়ে আসে নাই)।
তুরস্কের সবচেয়ে পরিচিত ইহসান শেনোজাক হোজা আয়া সুফিয়ার সামনে নামাজ শেষে বলেন: এটিকে জোরপূর্বক ৮৬ বছর মিউজিয়াম বানিয়ে রেখেছে অথচ এর ভিতরে দেওয়াল ছাড়া আর কিছুই নেই। তাহলে কেন? আল্লাহু আকবার নিষিদ্ধ করার লোকরা ইসলামকে মিউজিয়াম বানিয়ে রাখতে চায়। তবে আজ ফাতিহ সুলতানের সন্তানের ঐ সকল লোকদেরকে মিউজিয়াম বানিয়ে দিয়েছে। 
আসলে কি বলব এই ভাবে বলতে গেলে তুরস্ক ও সারা দুনিয়ার ঈমানদার ও ইসলাম প্রিয় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সংবাদিক, ব্যবসায়ী সহ সকল নর নারী অন্তরে যেন আজ প্রশান্তির বাতাস বইছে।

ফ্রি সাভিস হিসাবে ফ্রিতে রুটি বিতরন


তারই ধারাবাহিকতায় আয়া সুফিয়া মসজিদে গত ২৪ তারিখ জুমার নামাজ থেকে শুরু হওয়া গণজোয়ার দেখে, ঐ দিন সন্ধ্যায় প্রসিডেন্ট এরদোগানের Recep Tayyip Erdoğan তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে ইস্তানবুলের গভর্নর টুইটারয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা সকলের জন্য খোলা থাকার ঘোষনা দেন। 
ফ্রি সাভিস হিসাবে রুটি বিক্রেতারা ফ্রিতে রুটি বিতরন করেছে, পুলিশ মুসল্লিদের পানি পান করেছে, স্থানীয় ফাতিহ পৌরসভা ফজরের নামাজের পরপর সকলের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা করেছে (সুপ ও রুটি) ও মাস্ক দিয়েছে। এই সকল কাজ সরাসরি তত্ত্বাবধান করেন ইস্তানবুলের গভর্নর ও ফাতিহ পৌরসভার মেয়র।
করোনা ভাইরাসের কারনে ইসলাম প্রিয় জনতা ভাগ ভাগ হয়ে আসছেন কি দিন কি রাত যেন তারা ভুলিয়ে গেছে। মসজিদে জায়গা না হলে প্রতি নামাজেই আয়া সুফিয়া ও সুলতান আহমেদ মাঠে একাধিক জামাত করছে। অনেক হয়তবা তাদের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আয়া সুফিয়া পরিদর্শন ও নামাজ পড়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান।
এই সকল কিছু দেখে মনে হচ্ছে ইসলামের ও মুসলমানদের যেন আজ পুনর্জাগরণের জোয়ার শুরু হয়েছে।

Share this post

Share on facebook
Share on google
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
Share on print

Designed by Alamin Moni

Copyright© BASAT 2019-2020

error: Content is protected !!

লেখক পরিচিতি

MD TAREQUL ISLAM

Md. Tarequl Islam is doing Ph.D. in Basic Islamic Sciences in Turkey. Also currently he works as a researcher at İKAM – Research Center for Islamic Economics, Istanbul. His current project is “Bibliography: Islamic Economics and Banking”. Mr. Tareq attended various conferences, festivals, projects (EU) both at home and abroad. Many programs have helped him to travel to Norway, France, Germany, Italy, Vatican City, Spain, Bulgaria, North Cyprus, etc.
As a new writer having publications in international journals (2 articles), youth magazines, newspapers, blogs, social media, etc.
Also, Mr. Tareq is currently the president of Asian region, International student commission at New World Foundation (Yeni Dünya Vakfı), Turkey & the student affairs secretary (male) of BASAT.